ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমান্ডু ২০২৬
ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমান্ডু ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর, গাইরিধারার অ্যালিস রিসেপশনসে। প্রথম দিন ছিল কন্ট্রিবিউটর ডে, পরের দিন মূল কনফারেন্স। আমি দুই দিনই ছিলাম। ফিরেছি Trac টিকিটে কয়েকটি উত্তর, ওয়ার্ডপ্রেস এডুকেশন প্রোগ্রামে আবেদনের পরিকল্পনা আর এমন একদল মানুষের তালিকা নিয়ে, যাঁদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতে চাই।
আমার সেই অভিজ্ঞতার গল্পটা বলছি। (ছবির ব্লগ লোডিং… ১, ২, ৩!)
কাঠমান্ডুর পথে
১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে ঢাকা পৌঁছালাম, ১৭ তারিখ ধরলাম কাঠমান্ডুর ফ্লাইট। এইবার সঙ্গে আমার পরিবারও ছিল। নেপাল আমার সবসময়ই ভালো লাগে। ২০২৪ সালে সহকর্মীদের সঙ্গে প্রথমবার নেপাল গিয়েছিলাম, প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি। সেই প্রথম নেপাল ভ্রমণ আমার জন্য অঘটন দিয়ে শুরু হলেও জীবনের প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণ শেষমেশ অসাধারণ হয়ে রয়েছিলো। আমার নেপাল ২০২৪ এর ব্লগে সেই অভিজ্ঞতার বিস্তারিত আছে।
এবার আমরা উঠেছিলাম নেপালের থামেল শহরে।
১৮ তারিখ সকালে আমার পরিবার তখনো ঘুমাচ্ছিল। আমি হোটেলে নাশতা সেরে উবার বাইক ডাকলাম। চালক রুট বুঝতে ভুল করে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো। ম্যাপ দেখে ঠিক করে তড়িঘড়ি করে সকাল সাড়ে আটটায় পৌঁছালাম অ্যালিস রিসেপশনসে। ভাগ্যিস রাস্তায় জ্যাম ছিল না।
কোর টেবিলে কন্ট্রিবিউটর ডে
এটা ছিল আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক কন্ট্রিবিউটর ডে। এর আগেও WordPress Trac টিকিটে কাজ করেছি, তবে একা একা। এবার বসলাম কোর টেবিলে, চেষ্টা করলাম পুরো প্রক্রিয়া মেনে কাজ করতে। অফিশিয়াল কন্ট্রিবিউটর ডে বলে কথা!
ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমান্ডু ওয়েবসাইট টিমের বিকাশ পুন মাগার আমাদের টেবিলে ভলান্টিয়ার হিসেবে সাহায্য করছিলেন। তিনি পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দিলেন।
দিনের শুরুটা গেল টিকিটগুলোতে আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি, সেটা খুঁজে বের করতে। আমার হাতে ছিল একজন মার্কেটারের দৃষ্টিভঙ্গি আর আমার এত বছরের মার্কেটিং অভিজ্ঞতা। চার-পাঁচটা টিকিটে নিজের মতামত দিলাম। আমি দেখতে চেয়েছিলাম, যিনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছেন তাঁর জন্য কোন বিষয়টা আর ফলাফল আরও ভালো করবে।
একটা উদাহরণ দিই। ৬৫৯৭৫ নম্বর টিকিটে সাইট আইকনের জন্য প্রস্তাব করা হেল্পার টেক্সটে লেখা ছিল “square aspect ratio (1:1)”। কথাটা ঠিক। কিন্তু যাঁরা আইকন আপলোড করার সময় অ্যাসপেক্ট রেশিওর হিসাবে ভাবেন না, তাঁরা এখানে হোঁচট খেতে পারেন, আমার এমনই মনে হয়েছিল। পাঁচ নম্বর কমেন্টে আমি আরও সহজ একটা বাক্য প্রস্তাব করলাম: চওড়া আর উচ্চতা সমান, এমন একটা বর্গাকার ছবি ব্যবহার করুন, কমপক্ষে ৫১২ × ৫১২ পিক্সেল।
অ্যাসপেক্ট রেশিও না জানলেও মানুষ বোঝে চওড়া আর উচ্চতা সমান মানে কী। “বর্গাকার ছবি ব্যবহার করুন” কথাটা সরাসরি বলে দেয় কী করতে হবে। সহজ সোর্স স্ট্রিং অনুবাদকদের জন্যও সুবিধার। এই লেখা দুটি ফাইলে ব্যবহার হয় আর কয়েক ডজন ভাষায় অনুবাদ হয়, তাই বিষয়টা জরুরি। Gutenberg-এর একটা ফলো-আপ ইস্যুতেও সমর্থন জানিয়েছি, কারণ সাইট এডিটরে একই ফিল্ড অন্যভাবে লেখা আছে।
যিনি মূল ট্র্যাক টিকেট লিখেছিলেন, তিনি উত্তর দিলেন। মেনে নিলেন, তাঁর প্রথম প্রস্তাব বেশির ভাগ ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীর কাছে হয়তো একটু বেশি টেকনিক্যাল।
এটা দেখে অন্যরকম একটা ভালো লাগল। আমার মতামতের মূল্য আছে, আমি যা জানি তা এমনভাবে বলতে পেরেছি যাতে কাজে লাগে, এই অনুভূতিটা দারুণ। ট্র্যাক টিকেটে কিছু মতামত দেওয়ার সময় আমি এখনো নার্ভাস থাকি। কিন্তু অন্য কন্ট্রিবিউটরদের পাশে বসে টিকিটে কাজ করতে গিয়ে একটু আত্মবিশ্বাস পেলাম। একটা জিনিস নিজেকে বললাম, আরও কন্ট্রিবিউটর ডেতে যোগ দিতে হবে আমাকে, তাহলে আশপাশের মানুষদের কাছ থেকে হ্যান্ডস-অন শিখতে পারব।
একা কাজ করার সঙ্গে কন্ট্রিবিউটর ডে টেবিলে সবার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা পুরো আলাদা। এখানে মানুষ একে অপরকে ডাকছে। একই টিকিটে একাধিক ল্যাপটপ খোলা। কেউ আরেকজনকে নিজের স্ক্রিনে প্যাচ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আমার আন্দাজে এইদিন হলরুমে একশোর বেশি কন্ট্রিবিউটর ছিলেন। টিকিট দেখার ফাঁকে ফাঁকে মানুষকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তাঁরা কী করেন, কোথায় কাজ করেন। ওই ছোট ছোট আলাপেই ঘণ্টাগুলো বেশ ভালোরকম কেটে যাচ্ছিল।
আমি বসেছিলাম কোডউইং সলিউশনসের ডেভেলপারদের সঙ্গে। কোম্পানিটি চালায় একজন নেপালি নবীন জয়সওয়াল। আমি যে কোম্পানিতে কাজ করি, তার একটা ফ্লুয়েন্ট কার্টের সঙ্গে তাঁরা একটা ইন্টিগ্রেশন বানিয়েছেন, আমাকে দেখালেন। দ্বিতীয় একটা ফ্লুয়েন্ট ফর্মস (যেটার মার্কেটিং লিড আমি) কাজ চলছে, সেটার কথাও বললেন। নবীনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হলো। সে বললো, কাজ শেষ হলে আমরা একসঙ্গে এর প্রমাশোন কোলাবরেশন করব। পরে সে আমাকে লিংকডইনে মেসেজ করেও জানালো, আমার যেকোনো প্রয়োজনে নেপালে দরকার হলে তাকে যেন জানাই। সে সর্বাত্নক চেষ্টা করবে। নেপালের মানুষ গুলা খুব আন্তরিক। আগের বার এসেও এটা দেখেছিলাম। বারবার আমার সেখানে ফিরে যেতে ইচ্ছা করার বড় একটা কারণ এটাই।
দিনের পরের সময় কাটালাম এডুকেশন টেবিলে। পূজা দেরাশ্রী-র কাজ আমি অনেক আগে থেকেই অনলাইনে ফলো করছি, Make WordPress-এর আপডেট আর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে এই প্রথম দেখা হলো।
ওয়ার্ডপ্রেস এডুকেশন প্রোগ্রামে আমার আগ্রহ ছিল, তাই কীভাবে কাজ শুরু করতে পারি, সেটা নিয়ে কথা বললাম।
বাংলাদেশে ওয়ার্ডপ্রেস এডুকেশন প্রোগ্রাম নিয়ে একের পর এক ইভেন্ট হচ্ছে, কিছু মানুষ কাজও শুরু করে দিয়েছেন। পূজা বললো, ওয়ার্ডপ্রেস এডুকেশন পেজ থেকে আবেদন করতে, তারপর একজন ওয়ার্ডপ্রেস লিড যোগাযোগ করবে। আমি বললাম আমি আবেদন করব। তাঁকে এটাও বললাম, সিলেটের একটা স্কুলে সেশন করতে আমরা আগ্রহী, আর সেটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে তা আমি আমার কলিগদের সাথে কথা বলে দেখব।
যে ওয়ার্ডক্যাম্প সেশনগুলো মনে গেঁথে আছে
কনফারেন্সের দিন তিনটা সেশনে বসেছিলাম: পূজার, সাইফ হাসানের আর শ্রীরাম লামিছানের।
ওয়ার্ডপ্রেস এডুকেশন প্রোগ্রাম নিয়ে পূজার সেশনে পুরো ওয়ার্ডপ্রেস এডুকেশন নিয়ে জিনিসটা পরিষ্কার হলো। এডুকেশন প্রোগ্রাম আর ক্যাম্পাস কানেক্ট ও ক্রেডিট প্রোগ্রাম বাস্তবে কীভাবে চলে, আমি আসলে জানতাম না। এটাও জানতাম না যে ক্রেডিট প্রোগ্রামের সার্টিফিকেট আসে ওয়ার্ডপ্রেস ফাউন্ডেশন থেকে। তাতে ওয়ার্ডপ্রেস কো-ফাউন্ডার ম্যাট মুলেনওয়েগের সই থাকে, ফলে সেই সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বও অনেক কাজের ছিল। কেউ একজন জানতে চাইলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এই প্রোগ্রামটা কীভাবে তুলে ধরা যায়। কেউ জানতে চাইলেন, ক্রেডিট প্রোগ্রাম কেন গুরুত্বপূর্ণ সেটা কীভাবে বোঝানো যায়। পূজার উত্তর ছিল, ওয়ার্কশপ আর সহায়ক উপকরণ বানানোর পেছনে নিজেদের কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের তালিকায় আরেকটা ক্রেডিট প্রোগ্রাম যোগ করতে পারে। এটা দিয়েই ক্রেডিট প্রোগ্রাম কোলাবেরশন এর শুরু করা উচিত।
সাইফ ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০২৩ সালে ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেটে। তাঁর বক্তব্য “AI as a Bicycle for the Mind” শুনতে হলভর্তি মানুষ ছিল, এটা সবাই পছন্দ করেছে। আমারও ভালো লেগেছে। এআইকে তিনি এমন একটা জায়গা থেকে দেখালেন, যেটা আগে শুনিনি। ইতিহাস ঘেঁটে বললেন, প্রতিটা বড় পরিবর্তনের সময় মানুষ কিছু একটা একদম “শেষ” বলে ঘোষণা করেছে, আর জীবন ঠিকই নিজের পথ খুঁজে নিয়েছে। কথাটা তিনি জুরাসিক পার্ক সিনেমার ডায়ালগ থেকে বলেছিলেন, ওটা আমার মাথায় গেঁথে আছে। সৃজনশীলতা নিয়ে তাঁর মত, এআইয়ের যুগে সৃজনশীল মানুষেরাই এগিয়ে থাকবে। সাইফ ভাই আরও বললেন, এআই ব্যবহার করতে হবে অটোমেশনের জন্য নয়, অগমেন্টেশনের জন্য। অগমেন্টেশন মানে এআই একজন মানুষকে আরও বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। অটোমেশন মানে সেই মানুষকেই সরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দিকটাতেই মনোযোগ দেওয়া দরকার। কিভাবে আমরা একজন মানুষকে এআই দিয়ে আর ভালো করতে সাহায্য করতে পারি।
শ্রীরাম লামিছানের বক্তব্য আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল আমার নিজের শুরুর দিনগুলোতে। আমিও আইটি নিয়ে আমার শুরু করেছিলাম সাইবার ক্যাফেতে বসে ওয়েবসাইট বানিয়ে, ২০০৫-২০০৬ সালে। ইয়াহু জিওসিটিজে সাইট বানিয়েছি, ব্লগারে শখের ব্লগ খুলেছি, পোস্ট লিখেছি, র্যাঙ্ক করানোর চেষ্টা করেছি। সেশনে সে বলল, তাঁর প্ল্যাটফর্মে মাসে দশ লাখের বেশি ভিজিটর আসে। ওই বয়সে সে যা বানিয়েছে, তা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে। ইচ্ছা করছিল, আমাদের দেশের অনেক তরুণকে যদি আমি তাঁর এই বক্তব্য দেখাতে পারতাম।
কনফারেন্সের দিনে আরও অনেক দারুণ সেশন ছিল। সবগুলোতে বসতে পারলে ভালো লাগত, কিন্তু আমার বেশির ভাগ সময় কেটেছে মানুষের সঙ্গে কথা বলে আর নেটওয়ার্কিং করে। একই জিনিসে আগ্রহী নতুন সব মানুষদের সাথে পরিচয়, তাদের সাথে কথা বলা — এই জিনিসটা আমার অনেক ভালো লাগে।
ওয়ার্ডক্যাম্প সেশনের ফাঁকে
দুই দিনই কয়েকজন বাংলাদেশি ভাইব্রাদারদের সঙ্গে দেখা হলো। ফয়সল ইমরান এসেছিলেন পরিবার নিয়ে। নাজমুল হাসান রবিনও পরিবার নিয়ে ছিলেন, কন্ট্রিবিউটর ডেতে তিনি অ্যাক্সেসিবিলিটি টেবিলের টেবিল লিড দায়িত্বে ছিলেন। সাইফ ভাইয়ের সঙ্গে আবার দেখা হলো। অটোম্যাটিকের একটা বুথ ছিল, সেখানে আরেক ফয়সল ভাই আমাকে শুভেচ্ছা জানালেন। সামনাসামনি বসে পূজার সঙ্গে এডুকেশন প্রোগ্রাম নিয়ে কথা বলাটাও ছিল দারুণ।
ক্যাম্পাস কানেক্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ওয়ার্ডক্যাম্পে আসা দুজন নেপালি শিক্ষার্থীর সঙ্গেও পরিচয় হলো। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁরা নানা বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করে গেলেন। এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে তাঁরা কোথায় দাঁড়াবেন, এ নিয়ে দুজনেই চিন্তিত। আমি তাদের একটু মোটিভেশন দেওয়ার চেষ্টা করলাম। তাদের মাঝে একজন অলরেডি এআই দিয়ে প্লাগিন বানানো শুরু করে দিয়েছে। আরেকজন বয়সে ছোট বলে একটু বেশি দ্বিধায় আছে। ওদের আগ্রহ দেখে অনেক ভালো লাগল। এই ওয়ার্ডক্যাম্পে অনেক কমবয়সী ছেলেমেয়ে ছিল। বাংলাদেশের ওয়ার্ডপ্রেস কমিউনিটির এটা খেয়াল করা উচিত, কিভাবে স্টুডেন্টদের ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে আর বেশী যুক্ত করা যায় সেই পথ খুঁজে বের করা উচিত।
মিডিয়া পার্টনারদের একজন সাইটসাগা ডটকমের সুনীতা রাই-এর সঙ্গেও সময় কাটালাম। ২০২৩ সালে ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেটে তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা, এটা ছিল দ্বিতীয়বার দেখা হওয়া। সে তাঁদের প্রজেক্ট আর ভিডিওতে সময় দিচ্ছে। আমি তাকে বললাম ভিডিওতে আরো বেশি সময় দিতে, কারণ গুগলের এআই ওভারভিউ এখন অর্গানিক ট্রাফিক প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দিচ্ছে। এর সমাধান হলো নিজের উপর ইনভেস্ট করা — ব্যক্তিত্বে বিনিয়োগ।কারণ দিনশেষে মানুষ মানুষকেই অনুসরণ করে।
২০২৪ সালে সহকর্মীদের সঙ্গে নেপাল ভ্রমণের সময়কার পুরোনো নেপালি বন্ধু উমেশ ঘিমিরের সঙ্গেও দেখা হলো।
মূল আয়োজক রেগন খড়্গী-র সঙ্গে এই প্রথম দেখা। তিনি আর তাঁর টিম ছিলেন অসাধারণ। কমিউনিকেশন টিমের মিনা তামাং দারুণ কাজ করেছেন। আমি তাঁকে বলছিলাম, পুরো আয়োজনটা ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টের মতো লেগেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েশন টিমের ইউরিকা কেসি কন্ট্রিবিউটর ডে অনেক সুন্দরভাবে হোস্ট করেছে। প্রতীক লাল শ্রেষ্ঠ-র সঙ্গে পরিচয় হওয়াও ভালো লাগার একটা অভিজ্ঞতা। আরও অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, যাঁদের সবার নাম এখানে লিখতে পারছি না। ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমান্ডুতে তাঁদের সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় আমি আসলেই খুব খুশি।
ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমান্ডু ২০২৬ এর সবচেয়ে সেরা আয়োজন ছিলো খাবার। আমি এমনিতেই নেপালের খাবারের ফ্যান! দুই দিনের দুপুরের খাবারই খুবই দারুণ ছিলো। আমার জিহবে এখনো স্বাদটা মনে আছে। তাদের সব খাবার ছিল হালাল, আর রেগন নিজে আমার কাছে সেটা নিশ্চিত করেছেন। এমন ছোট ছোট খেয়ালেই তাদের এই আয়োজনটা আরও ভালো হয়েছে। তাঁরা সবার কথা ভেবেছে। শুধু খাবারের লোভেই হয়তো আমি পরের ওয়ার্ডক্যাম্প নেপাল বা কাঠমান্ডুতে যোগ দেব! হা হা হা!
আমি একদম ইভেন্টের শেষ পর্যন্ত ছিলাম। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত হলের পরিবেশ ছিল অন্য রকম। আমি আফটার-পার্টিতে যাইনি, কারণ পরিবার হোটেলে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি নিশ্চিত, আফটার পার্টির খাবারও দারুণ ছিল!
বাংলাদেশে ফেরার সময় যা নিয়ে এলাম
পূজার পরামর্শ মতো Make WordPress-এর মাধ্যমে এডুকেশন প্রোগ্রামে আবেদন করব, তারপর লিডের যোগাযোগের অপেক্ষায় থাকব। সিলেটের একটা স্কুলে সেশন করার সম্ভাবনা খুঁজে দেখব, যেটা পূজাকে বলেছি। এ নিয়ে সহকর্মীদের কয়েকজনের সঙ্গে আগেই কথা হয়েছে। আরও কন্ট্রিবিউটর ডেতে বেশি বেশি যোগ দেব, আর Trac টিকিটে একজন মার্কেটারের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে যাব।
ওয়ার্ডপ্রেসের জগতে আপনি বাংলাদেশে থাকুন বা অন্য কোথাও, নিজের এলাকার ওয়ার্ডক্যাম্পে যোগ দিন, মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। ওয়ার্ডপ্রেসে কন্ট্রিবিউট করুন, এতে ওপেন সোর্স কমিউনিটির উপকার হয়, আপনিও ক্যারিয়ার গ্রোথে এগিয়ে থাকেন। এরপর কোনো একটা আন্তর্জাতিক ওয়ার্ডক্যাম্পে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এটা আমার চিন্তাভাবনা ভাবনা বদলে দিয়েছে, আমি নিশ্চিত আপনাকেও বদলে দেবে। আপনার দৃষ্টিভঙ্গির বাইরেও আপনি একটা নতুন দুনিয়া দেখতে পাবেন, আপনার চিরায়িত জানার বাইরে আরও অনেক কিছু নিয়ে কৌতূহল জাগবে, আর সেটা আপনার দক্ষতা ও ক্যারিয়ারের কাজে লাগবে।
ওয়ার্ডক্যাম্প মালয়েশিয়া ২০২৫ ছিল আমার প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ার্ডক্যাম্প। তখন ভেবেছিলাম, ওটাই আমার সেরা অভিজ্ঞতা। ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমান্ডু আমার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ওয়ার্ডক্যাম্প, আর এখন পর্যন্ত যতগুলোতে গিয়েছি, এটাই সবচেয়ে চমৎকার লেগেছে! পরের নেপাল ওয়ার্ডক্যাম্পে যাব, এটা আমি নিশ্চিত!
এতক্ষণ আমার অভিজ্ঞতা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে অন্য কোনো ওয়ার্ডক্যাম্পে! সবাই ভালো থাকবেন!
আর পড়ুনঃ সিলেট ওয়ার্ডক্যাম্প ২০২৬ – আমার অভিজ্ঞতা
















