বিজয় দিবস
১৬ তারিখ আমাদের বিজয় দিবস গেলো।
বিকেলে মেয়েকে নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলাম। আমি চেষ্টা করি প্রতি বিজয় দিবসের ছুটিতে মেয়েকে নিয়ে বাইরে যেতে। এইবারও ব্যাতিক্রম ছিলো না।
আলাদা করে কোন জায়গা না থাকায় সিলেটের মানুষ আমাদের শহরের শহীদ মিনারে গিয়ে প্রতিবার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এই দিনেও মানুষ ফুল নিয়ে জড়ো হয়েছিলো সেখানে।
সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত হয়ে আসছে শহীদ মিনারে। ছোট ছোট বাচ্চারা আসছে গালে বিজয়ের নিশান মাখতে, বাবা মা তাদের বাচ্চা নিয়ে আসছেন শহিদ মিনারে, পিচ্ছি ছেলে মেয়ে থেকে বড়রা কি সুন্দর পোশাক আর শাড়ি পরে আসছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কথা বলছে, হাসছে, ছবি তুলছে। দেখতে এত চমৎকার লাগছিলো।
এসব দেখতে দেখতে আমার মনে পড়লো, ২০২৪ সালের আগস্টে ১৪০০+ মানুষকে হত্যা করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর খুনি আওয়ামী লীগ আর তাদের দোসর সুশীল মিডিয়া লীগ একটা কথা খুব ছড়াচ্ছিলো যে দেশ এখন আফগানিস্থান হয়ে যাবে, দেশে মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১, বিজয় দিবস স্বাধীনতা দিবস এইসবের কোন নাম নিশানাই থাকবে না।
এই জুজুর ভয় তারা গত ২০ বছর ধরে দেখিয়ে আসছিলো। জামাত শিবির রাজাকার দেশ আবার পাকিস্থান বানিয়ে ফেলবে। আওয়ামীলীগ না থাকলে দেশ অন্ধকার!
ছাত্র আন্দোলনের সময় হাসিনার ছাত্রদের রাজাকার বলার প্রতিক্রিয়ায় ছাত্র জনতার নিজেদের রাজাকার বলে প্রতিবাদ করায় অনেক সুশীল অনলাইনে এটা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলো যে এরা তো পাকিস্থানের দোসর। রাজাকার বলা তো ঠিকই আছে। আর কত রকম প্রপাগান্ডা!
২০২৪ সালে ৫ আগস্টে আওয়ামীলীগের পতনের পর এই প্রপাগান্ডা ব্যাপকভাবে অনলাইনে ছড়ানো হয়েছিলো। কিন্তু আদতে আমরা কি দেখলাম?
মানুষ কি মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে গেছে?
১৯৭১ এ আমাদের শহীদদের অবদানকে ভুলে গেছে?
আমাদের স্বাধীনতার মর্ম কি আমরা ভুলে গেছি?
না, আমরা ভুলে যাই নাই। আমাদের দেশের মানুষ ভুলে যায় নাই।
২০২৪ এর বিজয় দিবসে মানুষ এটা প্রমাণ করেছে, এরপর এই বছরের স্বাধীনতা দিবস আর এখনকার বিজয় দিবসে সাধারণ মানুষ তাদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মানুষ এখনো এগুলাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
মানুষ নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে গালে বিজয়ের নিশান লাগিয়ে, সাইকেলে রিকশা গাড়িতে দেশের পতাকা আর বিজয়ের নিশান লাগিয়ে। সপরিবারে শহীদ মিনারে গিয়ে, স্মৃতিসৌধে গিয়ে নিজের মন থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে।
সাধারণ মানুষ কি কারো কথায় বিজয়ের দিন বের হয়েছিলো? নাকি কোন নেতার বা দলের ডাকে? আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ স্বাধীনতা এইসব কখনো মুছে দেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশের মানুষ ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে, আওয়ামীলীগের বানানো মুক্তিযুদ্ধের ন্যারাটিভকে প্রত্যাখ্যান করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আওয়ামীলীগের ব্যাবসাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আপনারাই দেখেন, আজকে যে জামাত শিবির রাজাকারের দল ছিলো তারা আজকে হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে বিজয় দিবসের র্যালি করে। প্রশ্ন করেন, কেনো তাদেরকে এটা করতে হচ্ছে? কারণ দিন শেষে তাদেরকেও বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতি করতে হবে। সাধারণ মানুষ যা চায় সেইভাবেই তাদেরকে বদলাতে হবে, সেই রকম রূপ বদলিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে।
এইজ্যনই তারাও আজ বাধ্য হয় বিজয় দিবসের র্যালি করতে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করার অভিনয় করতে। কারণ তারা মানতে বাধ্য হয়েছে যে সাধারণ মানুষের মনে মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ চাইলেই ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। আওয়ামীলীগের ন্যারিটভের বাইরে গিয়েও মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর বিজয় নিয়ে আবেগ মনে ধারণ করে।
প্রতিবার ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস আসে, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস আসে, সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসা দেখাবে। আর সেটাই এই আওয়ামীলীগ আর জামায়েতে ইসলামীর মুখে একেকটা চটোপাঘাত হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক!