মাউন্ট এভারেস্ট এখন একটা মাল্টি- মিলিয়ন ডলার বিজনেস আর শেরপারা সেই বিজনেসের সবচেয়ে সস্তা কাঁচামাল
মাউন্ট এভারেস্টের কথা ভাবলে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে তুষারশুভ্র শৃঙ্গ, বীরত্ব আর রোমাঞ্চ। কিন্তু বাস্তবটা এখন বেশ জটিল।
৫২ বছর বয়সী শেরপা গাইড দাওয়া শেরপার কথাই ধরুন না। ২৯ মে ক্যাম্প ৩-এর আশেপাশে, যেখানে অক্সিজেনের অভাবে ফুসফুস হাহাকার করে, সেখান থেকে হঠাৎই হারিয়ে গেলেন তিনি।
ছয়টা দিন! মাইনাস তাপমাত্রায়, বিনা অক্সিজেনে, পৃথিবীর ছাদ থেকে তিনি নিখোঁজ। সবাই যখন প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই খবর এলো, তিনি বেঁচে আছেন। কুম্বু আইসফলের কাছে তাকে হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পের দিকে আসতে দেখা গেছে। এটাকে যদি অলৌকিক না বলি, তবে আর কী বলব?

কিন্তু এই অলৌকিক গল্পের বাইরেও একটা বিষণ্ণ বাস্তবতা আছে।
আমরা এভারেস্টকে এখন একটা ‘মাল্টি-মিলিয়ন ডলার বিজনেস’ বানিয়ে ফেলেছি। আগে এভারেস্ট জয় ছিল গুটিকয়েক মানুষের সাধনার গল্প, এখন সেটা হয়ে গেছে অনেকটা ‘প্যাকেজ ট্যুর’। হাজারখানেক মানুষ যখন একই সাথে পাহাড় চড়তে শুরু করেন, তখন পাহাড়ের চূড়া আর পাহাড় থাকে না, হয়ে ওঠে একটা ট্র্যাফিক জ্যামের আস্তানা।
বাণিজ্যিক এই জোয়ারে কী হচ্ছে জানেন?
পাহাড়ের চূড়াকে এখন পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। যে কেউ মোটা টাকা দিয়ে পারমিট কিনছেন, আর সেই ক্লায়েন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে শেরপা গাইডদের জীবন প্রতিদিন বাজি রাখতে হচ্ছে। একজন নেপালি গাইড গোটা সিজনে আয় করেন বড়জোর ৫ হাজার ডলার। এই সামান্য টাকার বিনিময়ে তাদের ওপর যে পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক চাপ যায়, সেটা কি কেউ জানে?
দাওয়া শেরপা ফিরে এসেছেন, এটা নিশ্চিতভাবেই খুশির খবর। কিন্তু এই ঘটনা যেন দেখাল এভারেস্টের এই বাণিজ্যিক জয়গানে মানুষ আর মুনাফার লড়াইটা বড্ড বেশি প্রকট হয়ে উঠছে।
,%20who%20was%20feared%20dead%20after%20going%20missing%20on%20Everest%20last%20week,%20has%20been%20found.webp)
কখনো ভেবেছেন কি, পাহাড় যখন নিজের মতো করে বিচার করতে শুরু করে, তখন এই হাজার ডলারের ব্যবসা বা পারমিট কি কোনো কাজে আসে? দাওয়া শেরপা হয়তো ভাগ্যগুণে ফিরে এসেছেন, কিন্তু এই ‘কমার্শিয়ালাইজড’ পাহাড়ে কত গাইড নীরবে ঝরে পড়ছে, তার খবর কেউ জানে?
পৃথিবীর ছাদ এখন একটা প্যাকেজ ট্যুর
.webp)
১৯৫৩ সালে যখন তেনজিং নোরগে আর এডমান্ড হিলারি প্রথমবার এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখলেন, তখন পর্বতারোহণ ছিল মূলত অ্যালপাইন ক্লাব, জাতীয় অভিযান আর বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যের জন্য। সাধারণ মানুষের কথা ভাবাই যেত না।
দশকের পর দশক নেপাল আর তিব্বত দুই দেশই বিদেশি পর্বতারোহীদের অ্যাক্সেস সীমিত রাখল। ১৯৮০-র দশকে মাত্র একটা করে পারমিট দেওয়া হতো প্রতি সিজনে।
বদলটা এলো ১৯৯০-এর গোড়ায়।
রব হল (Adventure Consultants) আর স্কট ফিশার (Mountain Madness)-এর মতো পর্বতারোহীরা বুঝলেন, পশ্চিমা অ্যাডভেঞ্চার-সিকাররা টাকা দিতে রাজি আছেন, শুধু পথ খুলে দিতে হবে। তাঁরা নেপাল সরকারকে রাজি করালেন বিদেশিদের জন্য অ্যাক্সেস বাড়াতে। এরপর ১৯৯৭ সালে জন ক্রাকাউয়ের বেস্টসেলার Into Thin Air প্রকাশিত হলো, যে বইয়ে লেখা হলো রব হল-সহ ৮ জন পর্বতারোহীর মৃত্যুর কাহিনী। কিন্তু বই পড়ে মানুষের আগ্রহ কমেনি, বরং বেড়েছে।
২০০০-এর মাঝামাঝি নাগাদ পশ্চিমা গাইডদের ডজনখানেক কোম্পানি তৈরি হয়ে গেল। বার্ষিক ৫০-৬০ জন পর্বতারোহী থেকে সংখ্যাটা এক লাফে ৫০০-তে চলে গেল। ১৯৫৩ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত মোট সামিট হয়েছিল ১,১৫৯টি। পরের মাত্র ২০ বছরে সেটা হলো ৮,৯৮৬টি।

২০১৯ সালে রেকর্ড ৮৭৬ জন সামিটার একসাথে চূড়ার দিকে উঠতে গিয়ে এমন ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি করলেন যে সেই বছর ১১ জন মারা গেলেন। পাহাড়ের চূড়ায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ছবি তখন সারা দুনিয়ার মিডিয়ায় ঘুরল।
.webp)
এভারেস্টে উঠতে কত টাকা লাগে?
এভারেস্টের যাত্রা শুরু হয় কাঠমান্ডু থেকে লুকলা গ্রামে ছোট বিমানে চেপে। সেখান থেকে ৬-৮ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে উপরে ওঠা, বিভিন্ন ক্যাম্পে অ্যাক্লিমাটাইজ করা, তারপর ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে চূড়ার দিকে ছুটে যাওয়া।
এই পুরো ট্রিপ বুক করতে হয় ৫০-এর বেশি কোম্পানির মধ্যে যেকোনো একটির কাছ থেকে। দাম কত?
মার্কেট বিশ্লেষণ বলছে, এভারেস্ট প্যাকেজের দাম পড়ে ৩৫,০০০ থেকে ১,৬০,০০০ ডলারের মধ্যে। পশ্চিমা অপারেটরদের গড় চার্জ ৬৬,০০০ ডলার।
এই দামের মধ্যে নেপাল সরকারের বিভিন্ন ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রতি পর্বতারোহীর পারমিট ফি ১১,০০০ ডলার। এছাড়া লিয়াজোঁ অফিসার ফি ৩,০০০ ডলার, আইসফল ডক্টর ফি (যাঁরা রুট নিরাপদ করেন) ২,৫০০ ডলার, ফ্যাসিলিটেশন ফি ২,৫০০ ডলার, আর ময়লা-আবর্জনার ডিপোজিট ৪,০০০ ডলার।
গাইড ফির বাইরে আরও ১০,০০০-১৫,০০০ ডলার যায় গিয়ার কিনতে; পুরো ডাউন স্যুট, মাউন্টেনিয়ারিং বুট, ক্র্যাম্পন, স্লিপিং ব্যাগ। সাথে বিমান ভাড়া, ইভাকুয়েশন ইন্স্যুরেন্স, স্যাটেলাইট ফোন সার্ভিস, আর প্রায় ১৮ মাসের ট্রেনিং।
এত টাকা খরচ করলে কি অন্তত চূড়ায় পৌঁছানো যায়?
পরিসংখ্যান বলছে, আজকের আধুনিক এভারেস্ট অভিযানে অতিরিক্ত অক্সিজেন, শেরপা সাপোর্ট, আর উন্নত সরঞ্জাম নিয়ে মাত্র ২৯% পর্বতারোহী সফলভাবে সামিট করেন। আর প্রায় ৪% মারা যান।
গাইড কোম্পানিগুলো কত আয় করে আসলে?
মনে হতে পারে, জনপ্রতি ৬৬,০০০-৭০,০০০ ডলার নিলে গাইড কোম্পানিগুলো হয়তো ভালোই আয় করছে। বাস্তব একটু আলাদা।
সিয়াটেল-ভিত্তিক Alpine Ascents-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর গর্ডন জেনো হিসাব মতে তাঁর কোম্পানি এক সিজনে ৮ জন ক্লায়েন্ট নিয়ে যায়। এই ট্রিপের জন্য লাগে ২ জন গাইড (৩৫,০০০ ডলার করে), ৮ জন শেরপা (৫,০০০ ডলার করে), একজন ক্যাম্প কুক (৬,০০০ ডলার), তার সাথে পারমিট, অক্সিজেন, সরঞ্জাম। প্রতিটি ক্লায়েন্ট ৭০,০০০ ডলার দেন।
Alpine Ascents শেষ পর্যন্ত মাথাপিছু আয় করে মাত্র ৭,০০০-১৪,০০০ ডলার, মানে মার্জিন ১০-২০ শতাংশ। ট্যাক্স আর অ্যাডমিন খরচ বাদ দিলে আরও কমে।
তাহলে এত টাকা যাচ্ছে কোথায়?
বড় অংশ যাচ্ছে নেপাল সরকারের ফি-তে, শেরপাদের মজুরিতে, আর সরঞ্জামে।
নেপালের অর্থনীতি এখন এভারেস্টনির্ভর
নেপাল বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। সেই নেপালের জন্য এভারেস্ট এখন কোটি কোটি ডলারের শিল্প।
পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞ লুকাস ফুর্টেনবাখ, Furtenbach Adventures-এর প্রতিষ্ঠাতা, বলেন, নেপালের পুরো অর্থনীতি আসলে এভারেস্ট পর্যটনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নেপালের পর্যটন শিল্প, যার বড় অংশই হিমালয় ট্রেকিং, দেশের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জিডিপির প্রায় ১০% তৈরি করে।
এই রাজস্বের কথা মাথায় রেখে নেপাল সরকার কখনো পারমিটের সংখ্যায় সীমা দেয়নি। অভিযোগ উঠলেও না। কারণ সীমা দিলে আয় কমে।
৫,০০০ ডলারে জীবন বিকিয়ে দেওয়া
শেরপাদের কথায় আসা দরকার।
এভারেস্টে শেরপারা শুধু গাইড না, তাঁরা আসলে পুরো অভিযানের মেরুদণ্ড। পর্বতারোহীদের আগে উঠে যান, বরফের ফাটলের উপর মই বসান, ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত মালপত্র বহন করেন, আর সীমিত অক্সিজেনে ওঠানামা করেন বারবার।
এভারেস্টে এ পর্যন্ত ৩০৪ জন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১১৯ জনই শেরপা; মোটের ৩৯ শতাংশ, যা যেকোনো জাতীয়তার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। ২০১৪ সালে বিখ্যাত কুম্বু আইসফলে রোপ ফিক্স করতে গিয়ে একটি তুষারধসে একসাথে ১৬ জন শেরপা মারা যান।
এই ঝুঁকির বিনিময়ে তাঁরা পান এক সিজনে মাত্র ৫,০০০ ডলার। নেপালে গড় বার্ষিক আয় ৭০০ ডলারের তুলনায় এটা বেশি, কিন্তু পশ্চিমা গাইডরা যেখানে ৩৫,০০০ ডলার পান, সেখানে এই পার্থক্যটা চোখে পড়ে।
দাওয়া শেরপার গল্পে ফিরে আসা যাক। তিনি ফিরে এসেছেন, এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের। কিন্তু প্রতিটি সিজনে কতজন শেরপা নীরবে হারিয়ে যান, সেই খবর ক’জন রাখেন?
নেপালি কোম্পানি বনাম পশ্চিমা কোম্পানি
গত পাঁচ বছরে আরেকটা পরিবর্তন এসেছে। শেরপাদের একটা নতুন প্রজন্ম ভাবল, পশ্চিমারা যদি আমাদের দিয়ে কাজ করিয়ে লাখ লাখ ডলার আয় করতে পারে, তাহলে আমরা নিজেরাই করি না কেন?
তাঁরা নিজস্ব অভিযান কোম্পানি খুললেন। দাম রাখলেন অনেক কম, গড়ে ৩৮,০০০ ডলার, অর্থাৎ পশ্চিমা অপারেটরদের চেয়ে ৪০ শতাংশ সস্তা। এই কম দামে আকৃষ্ট হলেন চীন ও ভারতের উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণির পর্বতারোহীরা।
কিন্তু কিছু পশ্চিমা গাইডের অভিযোগ, এই নতুন কোম্পানিগুলো নিরাপত্তায় ছাড় দিচ্ছে। যেকাউকে নিয়ে যাচ্ছে, অভিজ্ঞতা নেই তাতে কিছু যায় আসে না। Seven Summit Treks-এর মতো কোম্পানি মাত্র ৩৫,০০০ ডলারে ট্যুর অফার করে এবং তাদের ওয়েবসাইটে লেখা থাকে, যাঁর “strong economic background” আছে তিনিই উঠতে পারবেন, বয়স বা ঝুঁকির ভয় বাধা না।
অন্য কোম্পানিগুলো যেখানে সর্বোচ্চ ২০ জন ক্লায়েন্ট নেয়, Seven Summit Treks একসাথে ১০০ জন পর্যন্ত নিয়ে ওঠে।
২০১৯ সালের ১১টি মৃত্যুর মধ্যে ৭টিই ছিল কম খরচের গাইডের সাথে যাওয়া পর্বতারোহীদের। মাউন্টেনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ অ্যালান আরনেট বলেন, এই মৃত্যুগুলোর বেশিরভাগই ছিল “এড়ানো যেত”, কারণ ছিল ক্লান্তি আর অ্যাল্টিটিউড সিকনেস।
পাহাড়ের গায়ে মৃতদেহ আর আবর্জনা
এভারেস্টে এখন পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁদের বেশিরভাগের লাশ পাহাড়েই পড়ে আছে। একটা লাশ নামিয়ে আনতে ১০ জন শেরপা লাগে, খরচ পড়ে ৭০,০০০ ডলার পর্যন্ত। তাই বেশিরভাগ পরিবার সেটা করতে পারে না। কিছু কিছু লাশ ট্রেইলমার্কার হয়ে গেছে, যেমন “গ্রিন বুটস” নামে পরিচিত একটি লাশ।
শুধু লাশ না, ৫৫০ ডলার দামের অক্সিজেন ট্যাংক, হাজার হাজার পাউন্ড হিমায়িত মলমূত্র, পরিত্যক্ত সরঞ্জাম এই সব মিলিয়ে এভারেস্ট এখন পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ডাম্পিং গ্রাউন্ডও।
পাহাড় যত বিপজ্জনক, টান তত বেশি
এছাড়াও অদ্ভুত একটা ব্যাপার আছে। ২০০৬ সালে ১১ জন মারা গেলেন, ২০১২ সালে ১০ জন, এর পরও পরের বছরগুলোতে আরও বেশি মানুষ এভারেস্টে উঠতে গেলেন। বিশেষজ্ঞ আরনেট বলেন, “এভারেস্ট মথের কাছে আলোর মতো। যত বিপজ্জনক, তত আকর্ষণীয়।”
এভারেস্ট এখন বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বড় কর্পোরেট এক্সিকিউটিভদের মধ্যে। ওয়ালমার্টের বোর্ড চেয়ারম্যান গ্রেগ পেনার ২০১৮ সালের মে মাসে এভারেস্ট সামিট করে কোম্পানির পতাকা ওড়ালেন। ১০ দিন পরে শেয়ারহোল্ডারদের সামনে বললেন, “বড় স্বপ্ন দেখো, ঝুঁকি নাও, কখনো হাল ছেড়ো না; এটাই ওয়ালমার্টের মনোভাব।”
পেশাদার পর্বতারোহীরা এই ট্রেন্ড ভালো চোখে দেখেন না। অ্যালান আরনেট সরাসরি বললেন, “বেশিরভাগ পেশাদার পর্বতারোহী এভারেস্টকে নাক সিঁটকিয়ে দেখেন, ওটাকে ট্যুরিস্ট রুট বলেন। এটা এখন সেই পাহাড় যাকে সবাই ঘেন্না করতে ভালোবাসে।”
তাহলে দাওয়া শেরপার গল্পটার মানে কী?
দাওয়া শেরপা ফিরে এসেছেন। সেটা সত্যিই অলৌকিক। কিন্তু এই অলৌকিকতার দরকার হওয়াটাই আসল সমস্যা।
একজন শেরপা ৫,০০০ ডলারের বিনিময়ে প্রতিবার পাহাড়ে ওঠেন। সামিট করার পরেও তাঁকে আবার নামতে হয়, তারপর আবার উঠতে হয়, ক্লায়েন্টের পেছন পেছন। যিনি ১,০০,০০০ ডলার খরচ করেছেন, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে শেরপাকে বারবার ঝুঁকি নিতে হয়।
পাহাড় কাউকে চেনে না; ব্যবসায়িক মডেল, পারমিট ফি, ক্লায়েন্টের ব্যাংক ব্যালেন্স, কিছুই না। সে শুধু জানে হাওয়া, তুষার আর অক্সিজেনের কমতি।
নেপাল সরকার দিন দিন পারমিটের সংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছে কারণ টাকা দরকার। গাইড কোম্পানিগুলো ক্লায়েন্ট নিচ্ছে কারণ ব্যবসা করতে হবে। পর্বতারোহীরা উঠছেন কারণ স্বপ্ন আছে, টাকা আ, তাদের মাউন্ট এভারেস্ট জয় করতে হবে । আর শেরপারা যাচ্ছেন কারণ এই ৫,০০০ ডলার তাঁদের পরিবারের সারা বছরের সংসার চালায়।
এই পুরো ব্যবস্থায় যার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি, তার গলার জোর সবচেয়ে কম।
দাওয়া শেরপা ফিরে এসেছেন। বেঁচে গেছেন বলে কি তিনি আর মাউন্ট এভারেস্টে উঠবেন না? নাহ, পরের সিজনে তিনি আবার যাবেন।
তথ্যসূত্র:
১. Zachary Crockett, “How Mount Everest became a multimillion-dollar business”, The Hustle — https://thehustle.co/how-mount-everest-became-a-multimillion-dollar-business
২. Miracle on Everest: Guide believed dead spotted crawling down ice, BBC.com – https://www.bbc.com/news/articles/cvgz2yjl4y3o
৩. ১৯৫৩ সালের সামিট — https://www.history.com/this-day-in-history/hillary-and-tenzing-reach-everest-summit
৪. রব হল — https://en.wikipedia.org/wiki/Rob_Hall
৫. স্কট ফিশার — https://en.wikipedia.org/wiki/Scott_Fischer
৬. Into Thin Air — https://en.wikipedia.org/wiki/Into_Thin_Air
৭. ২০১৯-এর ট্র্যাফিক জ্যামের ছবি — https://twitter.com/nimsdai/status/1131931349030457345/photo/1
৮. Alpine Ascents — https://www.alpineascents.com/
৯. নেপালের দারিদ্র্য (IMF) — https://www.imf.org/external/pubs/ft/weo/2019/01/weodata/weorept.aspx
১০. নেপাল পর্যটন ও জিডিপির ১০% — https://www.nepalisansar.com/tourism/nepal-tourism-industry-2018-usd-2-1-bn-revenue-1-mn-jobs/
১১. কুম্বু আইসফল (ভিডিও) — https://www.youtube.com/watch?v=jkKj91b5JjU
১২. ২০১৪-এর তুষারধসে ১৬ শেরপার মৃত্যু — https://en.wikipedia.org/wiki/2014_Mount_Everest_ice_avalanche
১৩. লাশ উদ্ধারে $৭০,০০০ খরচ (BBC) — http://www.bbc.com/future/story/20151008-the-graveyard-in-the-clouds-everests-200-dead-bodies
১৪. Green Boots — https://en.wikipedia.org/wiki/Green_Boots
১৫. গ্রেগ পেনারের বক্তব্য (Walmart) — https://corporate.walmart.com/newsroom/2018/06/01/greg-penner-chairman-of-the-walmart-board-of-directors-remarks-at-2018-walmart-associate-and-shareholders-meeting



