ব্লাস্ট (২০২৬) তামিল একশন মুভি রিভিউ

ব্লাস্ট (২০২৬) তামিল একশন মুভি রিভিউ

অনেক দিন পর একটা জমজমাট সাউথ একশন মুভি দেখলাম। ব্লাস্টকে কি ফ্যামিলি একশন মুভি বলা যায়? যেহেতু মুভিটা একটা ফ্যামিলিকে ঘিরেই।

একটা সাধারণ পরিবার, যাদের আছে মার্শাল আর্টের দক্ষতা, হঠাৎ মুখোমুখি হয়ে যায় এক নির্মম গ্যাংয়ের। বাঁচার তাগিদে তাদের এক হতে হয়, লড়তে হয় প্রবল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে, এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। ব্লাস্টের গল্পটা মোটামুটি এরকমই।

ব্লাস্ট মুভির ট্রেইলার –

Blast – Trailer | Arjun, Preity Mukundhan, Abhirami | Ravi Basrur | Subash K Raj | AGS Entertainment

কাহিনী

প্রথমেই বলতে হয় মুভির কাহিনী নিয়ে। খুবই সাদামাটা ভাবে একটা পরিবারের জীবন দিয়ে শুরু। কিভাবে সেই পরিবার ঘটনাচক্রে মাফিয়া গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে সেটার কাহিনী নিয়েই পুরো মুভি। মুভিতে ছোটখাট কিছু প্লট হোল থাকলেও তা মুভির বিনোদন একদমই কমিয়ে দেয় নি।

ব্লাস্ট তামিল থ্রিলার মুভি রিভিউ

গল্পের সবচেয়ে মজার দিকটা হলো, দুই পক্ষই একে অপরকে চেনে না। হিরো জানে না ভিলেন কে, ভিলেনও বুঝতে পারে না কে তার প্ল্যান বারবার ভেস্তে দিচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা থেকেই তৈরি হয় টেনশন আর কমেডির একটা দারুণ মিশ্রণ। মজার একটা টুইস্টও আছে, আলী নামের একটা চরিত্রের ভুলের কারণে গ্যাংটা তাদের মার্শাল আর্টের দক্ষতার কথা না জেনেই হাজির হয় তাদের মেরে ফেলতে।

একশন

মুভির একশন সিন গুলার কথা আলাদা করে বলতে হয়। বিশেষ করে প্রীতি মুকুন্দানের একশন সিন আর ভিলেন এর হাসপাতাল একশন সিনগুলা জোশ লেগেছে। প্রীতির একশন সিন অনেক বিলিভেবল ছিলো। মেডিকেল শপের সিন, কার ফাইট, আর ইন্টারভ্যাল ব্লকের স্টান্টগুলাও আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে, কোরিওগ্রাফি একদম টানটান।

ব্লাস্ট (২০২৬) তামিল একশন মুভি  রিভিউ

মুভির সবচেয়ে বড় হাইলাইট আমার কাছে সেই হোম ইনভেশন সিকোয়েন্স, যেখানে পরিবারের চারজনই একসাথে ক্যারাটে দিয়ে মাফিয়ার লোকদের রীতিমতো ধুয়ে দেয়। পুরো পরিবার মিলে লড়াই করার এই দৃশ্যটায় অ্যাড্রেনালিন রাশ একদম চরমে ওঠে। ইন্টারভ্যালের আগের সিন আর ক্লাইম্যাক্স সিনটাও একদম নাম অনুযায়ী ব্লাস্ট।

প্রীতি মুকুন্দান

এই মেয়েকে প্রথম দেখেছিলাম সাইঅভিয়ংকরে এর মিউজিক ভিডিওতে। তখনি তার স্ক্রিন প্রেজেন্স নজর কেড়েছিল। এরপর সিঙ্গার বাদশার গানে। ব্লাস্ট মুভিতেও তার স্ক্রিন প্রেজেন্স অনবদ্য। ফেসবুক গ্রুপের মুভি গ্রুপ গুলায় দেখলাম সে হালের নতুন ক্রাশ। হবেই না ক্যান? ভালোই অভিনয় করেছে। শুনেছি শীঘ্রই বলিউড মুভিতে লঞ্চ হচ্ছে সে!

প্রীতি মুকুন্দান ব্লাস্ট তামিল মুভি

পুরো মুভি জুড়েই প্রীতি মুকুন্দানের দাপট, তার পারফরম্যান্সটাই সিনেমার আসল শক্তি। এই মুভি দেখার পর সবাইই একমত হবেন, প্রীতির অভিনয়ই এই মুভির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নতুন মুখ হয়েও পুরো সিনেমাজুড়ে যেভাবে নিজের উপস্থিতি অনুভব করিয়েছেন প্রীতি, সেটা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।

শুধু সুন্দর দেখালেই তো আর নায়িকা হওয়া যায় না। পর্দায় নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাটাই আসল চ্যালেঞ্জ, আর প্রীতি ঠিক সেখানেই বাজিমাত করেছেন। অভিনয়, এক্সপ্রেশন, স্ক্রিন কমান্ড, সব কিছুর পাশাপাশি অ্যাকশন সিকোয়েন্সেও তার আত্মবিশ্বাসটা চোখে পড়ার মতো।

অর্জুনের কামব্যাক

অর্জুন এখানে হিরো হলেও পুরো মুভি জুড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে প্রীতি মুকুন্দানই স্ক্রিন দখল করে রেখেছেন। তারপরও অর্জুনের সাম্প্রতিক ফিল্মোগ্রাফি নিয়ে অনেকেরই হতাশা ছিল, কিন্তু ব্লাস্ট দিয়ে তিনি যেন আবার প্রমাণ করলেন কেন তাকে একসময় অ্যাকশন কিং বলা হতো।

ভিলেন আর মিউজিক

ভিলেন হিসেবে আছেন দুজন। কর্পোরেট মাফিয়া বস বরুণ দয়ালান চরিত্রে জন কক্কেন, আর তার ভাড়াটে খুনি আব্রাহাম চরিত্রে অর্জুন চিদাম্বরম। হাসপাতালের সেই একশন সিনে আব্রাহাম চরিত্রটার পারফরম্যান্স রীতিমতো গা ছমছম করিয়ে দেয়।

সাপোর্টিং রোলে অভিরামি আর অর্জুন তাদের জায়গায় সেরাটা দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হল এই মুভিতে আলাদা করে কোন গান নাই ন্যাকামি নাই শুধু টান টান উত্তেজনা, একশন আর ধুমাধারক্কা মারপিঠ।

মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যে করেছেন একদম ফাটিয়ে দিয়েছে। এই মিউজিক করেছেন রবি বসরুর, এটাই তার প্রথম তামিল মুভি। এখানে একটা সিনের অফিশিয়াল ইউটিউব ভিডিও দিচ্ছি,

The Rage – Video Song | Blast | Arjun | Ravi Basrur | Subash K Raj | AGS Entertainment

এখানের মিউজিক আর ভিলেন অভিনেতার পারফরম্যান্সটা দেখিয়েন।

মজার তথ্য হলো, পরিচালক সুবাশ কে রাজ নিজেই একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ব্লাস্ট পুরো পরিবারের জন্য বানানো একটা একশন মুভি। তাহলে লেখার শুরুতে যে প্রশ্ন তুলেছিলাম, ব্লাস্টকে ফ্যামিলি একশন মুভি বলা যায় কিনা, উত্তরটা পরিচালক নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। এটা তার প্রথম ডিরেকশন করা মুভি, এর আগে তিনি প্রদীপ রঙ্গনাথনের সহকারী পরিচালক ছিলেন লাভ টুডে (২০২২) মুভিতে।

মুভির দুর্বলতা

তবে দুর্বলতাও চোখ এড়ায়নি। গল্পে লজিকের কিছু ঘাটতি আছে, পুলিশকে দেখানো হয়েছে প্রায় অকেজো হিসেবে, আর কমেডি আরেকটু বেশি থাকলে আরও ভালো লাগত। সবচেয়ে বড় সমস্যাটা মূল ভিলেন চরিত্র নিয়ে, জন কক্কেনের চরিত্রটাকে বড় থ্রেট হিসেবে সেটআপ করা হলেও লেখা আর এক্সিকিউশনে সেটা ঠিকমতো কাজে লাগানো হয়নি।

বক্স অফিস

মুভিটা মুক্তি পেয়েছে গত ২৮ মে। বক্স অফিসেও রীতিমতো ঝড় তুলেছে, মুক্তির প্রথম চার দিনেই আয় করেছে প্রায় ২৫ কোটি রুপি, যেখানে মুভির বাজেট ছিল ১৮ কোটি রুপির মতো। মানে খরচ তুলে রীতিমতো লাভের মুখ দেখেছে ব্লাস্ট।

আফসুস, এইসব মুভি আসলে থিয়েটারে দেখার মুভি। আসল ব্লাস্ট তো তারাই পেয়েছে যারা এই মুভি থিয়েটারে দেখেছে। উইকেন্ডের সময় কাটানোর চমৎকার একটা মুভি ব্লাস্ট।

ব্লাস্ট দেখে থাকলে কমেন্ট করে জানান আপনার কেমন লেগেছে মুভিটা?

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.