We Bought a Zoo | যে সিনেমা বারবার দেখতে ইচ্ছে করে
কিছু সিনেমা একবার দেখলেই হয়। আর কিছু সিনেমা আছে যেগুলো মনের একটা কোণে থেকে যায়, বারবার একটা দুইটা সিন ফিরে আসে, আবার সিনেমাটা দেখতে ইচ্ছে করে। We Bought a Zoo আমার কাছে সেরকমই একটা ছবি। ফিল গুড সিনেমার যদি কোনো সংজ্ঞা থাকে, এই ছবিটা সেটার একটা ভালো উদাহরণ।
ফিল গুড সিনেমা সিরিজের লেখা এটা প্রথম পোষ্ট। আমি এই সিরিজে আমার দেখা প্রিয় মুভিগুলো নিয়ে লেখব, যেগুলা আমার বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। আর আমি বার বার দেখিও। এই মুভিটা আগে দেখে না থাকলে ছবির কাহিনী অংশটা স্কিপ করতে পারেন, স্পয়লার আছে।
ছবির কাহিনী

স্ত্রী ক্যাথেরিনের মৃত্যুর সাত মাস পর Benjamin Mee-এর ১৪ বছরের ছেলে Dylan স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হয়। বেঞ্জামিন বুঝতে পারেন পরিবারটার একটা নতুন শুরু দরকার। ডিসিশন নেন জায়গা বদল করবেন। তিনি বাড়ি খুঁজতে বের হন, কোনোটাই মনে ধরছিল না। তারপর ৭ বছরের মেয়ে Rosie একটা বিশাল পুরনো বাড়ির লিস্টিং দেখে। রিয়েলটর মি. স্টিভেন্স জানালেন বাড়িটা নিতে হলে সাথে একটা বন্ধ চিড়িয়াখানাও কিনতে হবে। Rosie-কে ময়ূরের সাথে খুশিমনে খেলতে দেখে বেঞ্জামিন সিদ্ধান্ত নিলেন, দুটোই কিনবেন।
এই মুহূর্তটা ছবির সবচেয়ে মজার দৃশ্যগুলোর একটা। রিয়েলটর যখন বলছেন বাড়ির সাথে চিড়িয়াখানাও আসবে, বেঞ্জামিন হতবাক দাঁড়িয়ে আছেন। আর Rosie লাফাতে লাফাতে চিৎকার করছে “Yay!” সাত বছরের বাচ্চার কাছে এটা তো স্বপ্নের মতো।
চিড়িয়াখানার head keeper Kelly Foster আর তার দল মিলে সংস্কারের কাজ শুরু করেন। Dylan তার হতাশা শিল্পকলায় ঢেলে দিতে থাকে। Kelly-র ১৩ বছরের কাজিন Lily-র সাথে Dylan-এর বন্ধুত্ব হয়, Lily তার প্রেমে পড়ে যায়।

একসময় USDA ইন্সপেক্টর Walter Ferris এসে ১ লাখ ডলারের বেশি মেরামতের তালিকা ধরিয়ে দেন। প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে চরম হতাশার মাঝে বেঞ্জামিন জানতে পারেন তার মৃত স্ত্রী তার জন্য একটা বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট রেখে গেছেন, বলে গেছেন মন দিয়ে শুনে বুদ্ধিমত্তার সাথে খরচ করতে। নিজের ভাইয়ের বাঁধার পরেও বেঞ্জামিন সেই টাকা চিড়িয়াখানায় লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। Dylan তা জেনে রাগে ফেটে পড়ে।
এরপর ঠিক কি হয়? বেঞ্জামিন কি তার পরিবারকে ধরে রাখতে পারে? শেষমেশ কি চিড়িয়াখানা সবার জন্য খুলে দিতে পারে?
তা জানতে হলে মুভিটা দেখতে হবে।
শেষ দৃশ্যে বেঞ্জামিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে সেই রেস্তোরাঁয় যান যেখানে প্রথম তাদের মা ক্যাথেরিনকে দেখেছিলেন, দেখে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন আর গল্প করেন কীভাবে সেদিন সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিলেন। এই দৃশ্যটা না দেখলে যেন ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ছবির মেকিং ও অভিনয়
এটি Cameron Crowe-এর পরিচালনায় ২০০৫ সালের Elizabethtown-এর পর প্রথম narrative ছবি। মূল স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন Aline Brosh McKenna, পরে Crowe নিজে সেটা নতুন করে লেখেন। $৫০ মিলিয়ন বাজেটের বিপরীতে উই বউথ এ জু ছবিটা আয় করেছে $১২০ মিলিয়ন।
এই ছবিতে Matt Damon-কে রাজি করানোর গল্পটাও চমৎকার। Crowe True Grit-এর শুটিং সেটে গিয়ে Damon-কে একটা script, নিজের একটা CD, আর ১৯৮৩ সালের Local Hero ছবির কপি দিয়ে আসেন। বলেন শুধু script পড়ে সিদ্ধান্ত না নিতে। Damon সেই সংগীতে আবেগাপ্লুত হন আর Local Hero-কে “masterpiece” বলে রাজি হয়ে যান। পরিচালক হিসেবে Crowe অবশ্য মিটিংয়ের মাঝপথেই মনে মনে Damon-কে নিয়ে নিয়েছিলেন।
ছবির সংগীত করেছেন Icelandic musician Jónsi, যিনি Sigur Rós ব্যান্ডের lead singer। এই soundtrack-টা ছবির আত্মার মতো কাজ করে। আর চিড়িয়াখানার দৃশ্যগুলো California-র Thousand Oaks-এ শুট হয়েছে, যেখানে ছবির জন্য পুরো একটা চিড়িয়াখানা তৈরি করা হয়েছিল।

অভিনয়ের কথা বলতে গেলে Matt Damon এখানে অসাধারণ। শোকার্ত, ক্লান্ত, তবু থামতে রাজি নয় এমন একজন বাবার চরিত্র তিনি যেভাবে ধরেছেন সেটা বিশ্বাসযোগ্য। Thomas Haden Church বেঞ্জামিনের ভাই Duncan-এর ভূমিকায়, তার dry হাস্যরস ছবির ভারী মুহূর্তগুলোকে একটু হালকা করে দেয়। তবে তাকে আরেকটু বেশি দেখালে ভালো লাগত।

আর ছোট Rosie-র ভূমিকায় Maggie Elizabeth Jones এই ছবির সবচেয়ে উজ্জ্বল উপস্থিতি। তাকে পর্দায় দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। Colin Ford Dylan-এর ক্ষোভ আর হতাশা বেশ বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখিয়েছেন, বিশেষত বাবার সাথে তার উত্তেজিত দৃশ্যগুলো ছবির সেরা অভিনয়ের মুহূর্ত।
স্কারলেট জোহানসন: অন্যরকম একটা পরিচয়

এই ছবিতে স্কারলেট জোহানসনকে দেখা যায় Kelly Foster হিসেবে, ২৮ বছরের একজন head zookeeper, যিনি Dylan আর Rosie-র জন্য একটা ফিমেল ফিগার হয়ে ওঠেন।
হলিউডে স্কারলেট জোহানসনকে যেভাবে সাধারণত দেখানো হয়, এই ছবি সেই ছাঁচ ভেঙে দিয়েছে। Kelly-র পোশাক সাধারণ, কাজ কঠিন, কথা সরাসরি। তাকে glamorize করার কোনো চেষ্টা নেই। একজন আইএমডিবি রিভিউয়ার সুন্দর বলেছেন যে সাধারণ পোশাকে ঢাকা, তাকে পুরোপুরি মুখের অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিতে হয়েছে, আর তিনি সেটা করেছেনও।
এই মুভিতে Kelly শুধু পাশে থাকা একটা মুখ নয়। চিড়িয়াখানার সাথে তার টান, তার সরাসরি কথা বলার ধরন, তার নিজের জীবনের সংকট সব মিলিয়ে চরিত্রটা অনেক বেশি মানবিক। অন্যান্য সিনেমায় স্কারলেটকে এভাবে দেখার সুযোগ কম আসে।
আসল গল্প বনাম সিনেমার গল্প
জানলে অবাক হবেন, We Bought a Zoo শুধু একটা সিনেমা না, এটা একটা সত্যি ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। আসল Benjamin Mee ২০০৮ সালে একই নামে একটা বই লিখেছিলেন, সেই বই থেকেই ছবিটা তৈরি।
আসল Benjamin Mee একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক। ২০০৬ সালে তিনি ইংল্যান্ডের Devon-এ Dartmoor Wildlife Park কিনেছিলেন, পরে যেটার নাম হয় Dartmoor Zoological Park। সিনেমায় সেটাকে American করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। Mee নিজে এই পরিবর্তনে রাজি ছিলেন।

তবে সিনেমার সাথে বাস্তবের পার্থক্য বেশ কিছু জায়গায়। সিনেমায় দেখানো হয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর বেঞ্জামিন চিড়িয়াখানা কেনেন। বাস্তবে উল্টো, চিড়িয়াখানা কেনার পর এবং সেখানে উঠে আসার পর Katherine মারা যান। সিনেমায় ঘটনাক্রমে একটা বাড়ি দেখতে গিয়ে চিড়িয়াখানার সাথে পরিচয়। বাস্তবে পরিবারটা জেনেশুনে, ভেবেচিন্তে চিড়িয়াখানা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সিনেমায় ছুটে যাওয়া প্রাণী ছিল একটা grizzly bear। আসলে পালিয়েছিল Sovereign নামের একটা jaguar। বাচ্চাদের বয়সও ভিন্ন, বাস্তবে তারা অনেক ছোট ছিল, মাত্র চার আর ছয় বছর।
আর সিনেমায় চিড়িয়াখানা কেনাটা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে মোটেও তা ছিল না। প্রায় দুই বছর লেগেছিল। প্রথম offer-ই reject হয়েছিল কারণ তার zoo management-এর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। শেষমেশ ২০০৭ সালের ৭ই জুলাই, একটা শনিবার, চিড়িয়াখানা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
সত্যিকারের গল্পটা সিনেমার চেয়ে কোনো অংশে কম নাটকীয় না।
We Bought a Zoo হয়ত নিখুঁত সিনেমা না। কিছু জায়গায় গতি একটু ধীর, কিছু সিন অনুমান করা যায় কি হতে যাচ্ছে। কিন্তু ছবির মাঝে যে আন্তরিকতা, এর উষ্ণতা এই যে ফিল গুড ফিলিংটাই এটাই মুভিটাকে বারবার দেখার মতো একটা মুভি বানিয়েছে আমার কাছে।
“Sometimes all you need is twenty seconds of insane courage.”
এই একটা লাইনের জন্যও এই ছবি দেখা যায়।