সিলেট ওয়ার্ডক্যাম্প ২০২৬
২ আর ৩ অক্টোবর হয়ে গেল ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেট ২০২৬। এটি ছিল ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেটের ৩য় আয়োজন।
এইবারের ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেট অন্যবারের চেয়ে একটু অন্যরকম ছিলো। কারণ এই বার ‘নো সোয়াগ পলিসি’ নেওয়া হয়েছিলো। মানে স্পনসর বা বুথে কোন সোয়াগ দেওয়া হবে না। এর মেইন উদ্দেশ্য ছিলো এমন যে, যারা জেনুইনলি ওয়ার্ডক্যাম্পের সেশনগুলাতে যোগ দিতে আগ্রহী তারাই শুধু ওয়ার্ডক্যাম্প আসুক। সাথে নেটওয়ার্কিং এবং অন্যদের কাছ থেকে শিখতে আগ্রহীরাই টিকেট কিনুন। তাই এইবার অনেকের কাছেই মনে হয়েছে ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেট নিয়ে হাইপ কম। এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। আগের মতো টিকেট এক দুই মিনিটে শেষ হয়ে যায় নি। আবার দেশে টেক কোম্পানি থেকে অনেক লে-অফ হওয়ায় একটা অস্থিরতা তো ছিলই। সেজন্য হয়ত আরো অনেকে যারা সিলেট ওয়ার্ডক্যাম্পে যোগ দিত তারা দেয় নাই।
তবে আমার কাছে ‘নো সোয়াগ পলিসি’ টা ভালো লেগেছে। আমি লাস্ট ঢাকা ওয়ার্ডক্যাম্পে দেখেছিলাম। এত ভালো ভালো সেশন হচ্ছিল। কিন্তু সবাই সোয়াগের দৌড়ে বসে ছিল বুথের এরিয়াতে। সেশনগুলা পুরাই খালি ছিল। এইবার এই জিনিসটা কিছু কাটানো গেছে। এছাড়া এইবার সেশনের পাশাপাশি দুইটা হ্যান্ড অন Workshop ছিল। যেখানে হাতেকলমে টপিক গুলা নিয়ে শেখার ছিল। সেখানেও অনেকে আগ্রহ নিয়ে জয়েন করেছে। দেখে ভালো লেগেছে জিনিসটা।
মজার ব্যাপার হলো, এই সিলেট ওয়ার্ডক্যাম্পের কন্ট্রিবিউটর ডে তে আনঅফিসিয়ালি আমি একটা টেবিলের টেবিল লিড হয়ে গেছি। অন্য সব টেবিলের মতো ইচ্ছা ছিল মার্কেটিং এর একটা টেবিল রাখা। কিন্তু প্রথমে আগ্রহী কেউ না থাকায় টেবিল অফিসিয়ালি ঘোষণা করা হয় নি। পরে আমাকে আর আমার বসকে আনঅফিসিয়ালি বলা হয়েছি। আমি তো ভাবছি যেহেতু আনঅফিসিয়াল তাই আসব বসব আড্ডা দেব। সকালে শরীর একটু খারাপ হওয়ায় একটু দেরিতে আসলাম। ওমা এসে দেখি মার্কেটিং টেবিলে ১৫-২০ জন মানুষ বসে আছেন। আসতেই আমার কলিগ তাদের মাঝে আমাকে বসিয়ে দিলেন।
এর পরের দুই তিন ঘন্টা সবার প্রশ্ন নানান রকম জিজ্ঞাসার মাঝে একটা অসাধারণ সময় গেলো। সবারই বর্তমান মার্কেটিং ও এআই এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে নানান রকম প্রশ্ন ছিল। চেষ্টা করেছি আমার নিজের এক্সপারিয়েন্স থেকে যতটুকু পারা যায় সবার উত্তর দিতে। বেশ ভালো একটা ডিসকাশন ছিল দেশী মার্কেটার ভাই ব্রাদারদের সাথে। কন্ট্রিবিউটর ডে টা অনেক ভালো লেগেছে।
কনফারেন্স ডেতেও শরীর খারাপ থাকায় সকাল সকাল যেতে পারি নি। প্রতিবারের মতো কনফারেন্স ডে টা সাস্টে ছিলো। এর মধ্যে আমার টিম মেট সকালে ফোন দিয়ে জানালো ভেন্যুতে ইন্টারনাল সার্কিট জ্বলে যাওয়ায় কারেন্ট নাই তাই এসি গুলা কাজ করতেছে না। গরমে সবার অবস্থা কাহিল। এগুলা শুনে আরেকটু দেরিতে সাস্টে গেলাম। গিয়ে দেখলাম আসলেই অবস্থা খারাপ সবার। অর্গানাইজারদের জন্য পুরাই ব্যাড লাক জিনিসটা। তাদের হাতে করার কিছুই ছিলো না আসলে। সারাটা দিন তারা চেষ্টা করে গেছেন অবস্থা ঠিক করার জন্য। যেহেতু বেশিরভাগই আমার পরিচিত মানুষ তাই তাদের চেষ্টাটা কাছ থেকে দেখেছি। এই সমস্যাটা না হলে হয়ত এইবারে ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেট ২০২৬ এক্সপারিয়েন্স আর অনেক সেরা হত!
কনফারেন্স ডেতেও অনেক ভাইব্রাদারদের সাথে দেখা হলো কথা হলো। বছরে একবারই এইরকম ইভেন্ট হয়, যেখানে নিজেদের টেক কমিউনিটির ভাইব্রাদারদের সাথে দেখা হয় আড্ডা হয়। ভালোই লাগে।
কনফারেন্স ডে আরেকটু স্পেশাল ছিল কারণ এইবার আমার দুই কলিগ রাসেল ভাই ও ধ্রুপো ভাই এর আলাদা দুইটা সেশন ছিলো। দুইটাই খুব ভালো লেগেছে।


ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেট ২০২৩ ছিল আমার প্রথম ওয়ার্ডক্যাম্প। এরপর ওয়ার্ডক্যাম্প সিলেট ২০২৪, ওয়ার্ডক্যাম্প ঢাকা ২০২৫, ওয়ার্ডক্যাম্প মালেশিয়া ২০২৬ এবং সম্প্রতি ওয়ার্ডক্যাম্প কাঠমুন্ডু ২০২৬ জয়েন করেছি। আমরা যারা এই ওয়ার্ডক্যাম্প ইন্ডাস্ট্রিতে আছি, তাদের জন্য ওয়ার্ডক্যাম্প অনেক স্পেশাল একটা ইভেন্ট। এই দুইটা দিন আমরা সবাই নিজেদের জায়গা থেকে ওয়ার্ডপ্রেস কমিউনিটি চেষ্টা করে নিজেদের শ্রম, সময় আর এক্সপার্টিস দিয়ে কমিউনিটির মাঝে ওপেনসোর্সে কন্ট্রিবিউট করতে।
অনেকেই জানেন না, এই ওয়ার্ডক্যাম্প জিনিসটা কমিউনিটির লোকেরা নিজেরা নিজেদের ফ্রি সময় বের করে নিজেদের শ্রম দিয়ে আয়োজন করে থাকে। এখান থেকে অর্গানাইজাররা কোন টাকা পায় না, ভলান্টিয়াররাও কোন টাকা পায় না। সবাই বিনা শ্রমে এখানে কাজ করে। কারণ ওয়ার্ডক্যাম্প একটা কমিউনিটি ইভেন্ট। আমি সেদিনও এরকম একজনকে বলতে শুনলাম যে ইভেন্ট অর্গানাইজারদের নিয়ে অভিযোগ। উনি মনে করছে যে কোন ইভেন্ট কোম্পানি দিয়ে ইভেন্ট অর্গানাইজ করা হয়েছে। পরে আমি উনার ভুল ভাঙালাম। অর্গানাইজার ও ভলান্টিয়ার যে ওয়ার্ডপ্রেস কমিউনিটির মানুষ যে ফ্রি সময় ও শ্রম দিয়ে এই ওয়ার্ডক্যাম্প গুলা অর্গানাইজ করে তা বুঝিয়ে দিলাম।
আপনারা যারা ওয়ার্ডপ্রেস বা টেক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন তাদের আমি বলব অবশ্যই লোকাল কোন ওয়ার্ডক্যাম্প জয়েন করতে, পারলে ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ডক্যাম্প গুলা জয়েন করতে। এই ইভেন্টগুলার যে এক্সপারিয়েন্স তা আপনারা বুঝতেন পারবেন সেগুলা জয়েন করার পর। এই এক্সপেরিয়েন্স আমি আপনাকে বলে বুঝাতে পারব না। একই সাথে আপনারা যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকতে চান তারাও চেষ্টা করেন লোকাল ওয়ার্ডক্যাম্প গুলায় যোগ দিতে। যোগ দিয়ে এগুলার এক্সপারিয়েন্স নিন। এছাড়াও আপনি ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
যারা স্টুডেন তাদের বলব ওয়ার্ডপ্রেসের ক্যাম্পাস কানেক্ট একটা প্রোগ্রাম আছে সেটার মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেস কমিউনিটির সাথে যুক্ত হতে। আপনাদের হাতে অফুরন্ত সময় আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদেরকে ইন্ডাস্ট্রির জন্য তৈরি করার এখনি সময়।
অনেক কথা হলো। আবার দেখা হবে কোন ওয়ার্ডক্যাম্পে। ধন্যবাদ।







